ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতের আলোচনায় কারা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৩-২০২৬ ১১:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৩-২০২৬ ১১:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন
আগামী ১২ই মার্চ শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
আগামী ১২ই মার্চ শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ওই অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। এদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ দেয়ার প্রস্তাব করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে আলোচনায় উঠে এসেছে জামায়াতের তিন নেতার নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন- দলটির একজন নায়েবে আমীর এবং দুজন আইনজীবী সংসদ সদস্য।
যদিও এ প্রশ্নে দলীয়ভাবে জামায়াত এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, বিষয়টি জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে জড়িত। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জুলাই সনদ কার্যকরে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কেবল একজন ডেপুটি স্পিকার দিলেই সংস্কার প্রস্তাব অথবা জুলাই সনদের অঙ্গীকার পরিপূর্ণ হবে না। তিনি বলেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন দেয়া সংস্কার প্রস্তাবের খণ্ডিত অংশ। সংস্কারের অনেকগুলো প্রস্তাব আছে। সেসব বিষয় পরিষ্কার করতে হবে। নাহলে প্রশ্ন থেকে যাবে।
বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিষয়টি ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় আসে। কারণ জুলাই সনদের অঙ্গীকারের মধ্যে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কয়েক সপ্তাহ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না থাকলেও সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বিষয়টি সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ঠিক করার জন্য প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে সরকারের পক্ষ থেকে অফার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করেন এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।
তাহলে কি এবারই উচ্চকক্ষ গঠিত হচ্ছে- জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন- সেটা আমরা এখনই ‘গুড উইল’ হিসেবে অফার করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমেদের ওই বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, মোবাইল সাংবাদিকরা কারও কারও নাম উল্লেখ করে নিউজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পোস্ট দিচ্ছে। এর কোনোটাই সঠিক নয়। আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবো।
একই সুরে কথা বলেছেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, মাত্র প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এখনো দলীয় ফোরামে আলোচনার সময়ও পাওয়া যায়নি।
তবে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতের ভেতরে ও বাইরে যাদের নাম ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম। পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোমেন একজন মেধাবী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। পিতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর যুদ্ধাপরাধের মামলার পাশাপাশি মওলানা আব্দুস সুবহানের মামলায়ও ডিফেন্স আইনজীবী ছিলেন তিনি। ভিআইপি আসন হিসেবে পাবনা-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে সর্বশেষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তার আগে মন্ত্রী ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। গুরুত্বপূর্ণ ওই আসন থেকে নির্বাচিত হিসেবে মোমেনকেই জামায়াতের পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, এটা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এখন পর্যন্ত এনিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
সূত্রমতে, মোমেন ছাড়াও জামায়াতের নায়েবে আমীর রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নামও সম্ভাব্য ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আলোচনায় আছে। তিনি দলের সিনিয়র নেতা এবং ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়াও ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের নামও বলছেন অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের মেধাবী আইনজীবী আরমান নিজের পিতা মীর কাসেম আলীর মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে প্রায় ৯ বছরে গুম হয়ে আয়নাঘরে থাকায় তার প্রতি দলের অনেকের সহানুভূতি রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি জামায়াত আমীরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স